গতি কত প্রকার ও কী কী? SSC Physics




সময়ের সাথে কোন কিছুর অবস্থায় যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে সেটি স্থির, আর যদি অবস্থানের পরিবর্তন হয় তাহলে সেটি গতিশীল। আবার যদি কোন একটি মূল বিন্দুর সাপেক্ষে কোন বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হয় তাহলে সেই বস্তুটি ওই বিন্দু সাপেক্ষে গতিশীল। মূল বিন্দু কি স্থীর নাকি সমবেগে চলছে সেটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাবো না। সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ সব গতি আপেক্ষিক। আমরা যদি সত্যিকারে স্থির কোন একটি প্রসঙ্গ বিন্দু খুঁজে বেড়ায় তাহলে বিপদে পড়ে যাব। পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন কিছুকে মূলবিন্দু ধরে নিয়ে একজন আপত্তি করে বলতে পারে পৃথিবীকে স্থির নয় সেটা নিজের অক্ষের উপর ঘুরছে। তাই পৃথিবীপৃষ্ঠের সবকিছু ঘুরছে। আমরা বুদ্ধি করে বলতে পারি পৃথিবীর কেন্দ্র হচ্ছে মূলবিন্দু তখন আরেকজন আপত্তি করে বলতে পারে যেহেতু স্থির নয় সেটি সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। আমরা আবার বুদ্ধি করে বলতে পারি সূর্যের কেন্দ্রবিন্দু হোক মূলবিন্দু তখন অন্য কেউ আপত্তি করে বলতে পারে সূর্য স্থির নয় সেটাও তো আমাদের গ্যালাক্সির ( বাংলায় নামটি ছায়াপথ ইংরেজিতে মিল্কিওয়ে ) কেন্দ্র করে ঘুরছে। বুঝতে পারছ তখন কেউ আর সাহস করে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে মূলবিন্দু বলবেনা। আসলে এত জটিলতার কোন প্রয়োজন নেই আমাদের কাজ চালানোর জন্য আমাদের কাছে স্থীর মনে হয় এরকম যেকোন বিন্দুকে মূলবিন্দু ধরে সব কাজ করে ফেলতে পারবো। শুধু বলে নিতে হবে সব মাপজোক এই মূল বিন্দুর সাপেক্ষে করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এভাবে পরমাণর ভেতরের নিউক্লিয়াস থেকে শুরু করে মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ সবকিছুর মাপজোক করে ফেলতে পারেন। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।

আমাদের চারপাশে অনেক রকম গতি দেখতে পাই কোন কিছু নড়ছে, কোনকিছু কাপছে, কোন কিছু ঘুরছে, কোন কিছু সরে যাচ্ছে, এই সবই হচ্ছে নানা রকম গতির উদাহরণ। সম্ভাব্য গতির কোন শেষ নেই কিন্তু আমরা ইচ্ছে করলে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ গতির কথা আলাদা করে বলতে পারি।

চলন গতি :

এটি সবচেয়ে সহজ গতির উদাহরণ। কোনকিছু সরলরেখায় যায় তাহলে তার গতিটি হচ্ছে সরলরৈখিক গতি। কোন কিছুকে সমতল পৃষ্ঠ থেকে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দিলে সেটা সরলরেখায় যাতে থাকে একটা বল কে উপর থেকে ছেড়ে দিলে সেটা সুযা নিচের দিকে পড়ে কাজেই সেটাও রৈখিক গতি।

ঘূর্ণন গতি :

কোন কিছু যদি একটা নির্দিষ্ট বিন্দু সমদুরত্বে থেকে ঘুরতে থাকে তাহলে সেটাকে বলে ঘূর্ণন গতি। বৈদ্যুতিক পাখা, ঘড়ির কাঁটা এগুলো ঘূর্ণন গতির উদাহরণ হলেও চমকপ্রদ একটা উদাহরণ হচ্ছে আকাশের চাঁদ। চাঁদকে কোন কিছু দিয়ে পৃথিবীর সাথে বেঁধে রাখা নেই তবুও এটা পৃথিবী কে ঘিরে ঘুরছে শুধু তাই নয় এটা টুপ করে পৃথিবীতে পরেও যাচ্ছে না।

চলন গতি :

কোন কিছু যদি এমন ভাবে চলতে থাকে যেন বস্তুর সকল কনা একই সময় একই দিকে যেতে থাকে তাহলে সেটা হচ্ছে চলন গতি। আমরা আমাদের চারপাশে মাঝে মাঝে এরকম অনেক প্রধান দেখতে পাই। কোন কিছু যখন সোজা ( রৈখিক গতি ) যায় তখন তার উদাহরণ দেখা খুব সহজ। গাড়ির ঘূর্ণায়মান চাকা বিবেচনায় না আনলে সোজা এগিয়ে যাওয়া একটা গাড়ির চলন গতির উদাহরণ। তখন গাড়ির প্রতিটি বিন্দু একই সময় একই দিকে একই দূরত্ব অতিক্রম করে চলন গতি সুযা হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কিন্তু আঁকাবাঁকা পথে চলন গতির উদাহরণ সহজে পাওয়া যায় না।

পর্যায়বৃত্ত গতি :

কোন গতিশীল বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে একই দিকে একই ভাবে অতিক্রম করে তাহলে সেটা কে পর্যাবৃত্ত গতি বলা হয়। আমাদের হৃদপিন্ডের স্পন্দন পর্যায় বৃত্ত কারণ সেটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে একই দিকে স্পন্দিত বা গতিশীল হয়। পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, কিংবা সরলরৈখিক হতে পারে। ঘূর্ণন গতি একটি বিশেষ ধরনের পর্যাবৃত্ত গতি।

সরল স্পন্দন গতি :

একটি বিশেষ ধরনের পর্যাবৃত্ত গতি হচ্ছে সরল স্পন্দন গতি। স্পন্দন গতির বেলায় একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দুইপাশে বস্তুটি স্পন্দিত হয় বস্তুটি একেবারে স্থির অবস্থা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে গতিশীল হয়। কেন্দ্রবিন্দুতে সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছায় তখন এর গতি কমতে থাকে কমতে কমতে এটি এক সময় থেমে যায় তখন সেটি গতিপথ পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে গতিশীল হয়। বিপরীত দিকে সর্বোচ্চ গতি শুরু হওয়ার পর আবার এর গতি কমতে থাকে একসময় পুরোপুরি থেমে আবার আগের দিকে ধীরে ধীরে গতিশীল হয় এবং এভাবে চলতেই থাকে। আমাদের চারপাশে স্পন্দন গতির অসংখ্য থেকে দেওয়া একটা বস্তু গতি হচ্ছে স্পন্দন গতি দোলনায় দুলতে থাকা শিশু কিংবা ঘড়ির পেন্ডুলাম এর উদাহরণ। আমরা যখন কথা বলি তখন বাতাসের অনু এই গতি দিয়ে শব্দ কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

আমরা এতক্ষণ বিশেষ কয়েক ধরনের গতির কথা জানলাম। কিন্তু এগুলোর কারণটি কথাও বলেনি পদার্থবিজ্ঞানে সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে যে এটি শুধু যে বস্তির বিচিত্র গতির কারণ খুঁজে বের করবে তা নয় এর গতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে।

Post a Comment

0 Comments